Our current worldwide spiritual leader – আমাদের বর্তমান বিশ্বব্যাপী আধ্যাত্মিক নেতা

সাহেবজাদা মির্যা মসরূর আহমদ সাহেব ১৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৫০ সালে আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামাতের কেন্দ্র রাবওয়া,পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হযরত সাহেবজাদা মির্যা মনসুর আহমদ সাহেবের পুত্র এবং তাঁর মাতার নাম হযরত সাহেবজাদী নাসিরা বেগম সাহেবা। সাহেবজাদা মির্যা মসরূর আহমদ সাহেব আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামাতের প্রতিষ্ঠাতা, প্রতিশ্রুত মসীহ্‌, হযরত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (আঃ)-এর প্রপৌত্র, এবং তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র হযরত মির্যা শরীফ আহমদ সাহেব (রাঃ)-এর পৌত্র, সাহেবজাদা মির্যা মসরূর আহমদ সাহেব হযরত খলিফাতুল মসীহ্‌ সানী (রাঃ)-এর দৌহিত্র।

সাহেবজাদা মির্যা মসরূর আহমদ সাহেব তালিমুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়, রাবওয়ায় শিক্ষাগ্রহণ করেন এবং তালিমুল ইসলাম কলেজ থেকে বি.এ. পাশ করেন। ১৯৭৬ সালে ফয়সালাবাদ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পাকিস্তান থেকে তিনি কৃষি অর্থনীতিতে মাস্টার্স অব সায়েন্স ডিগ্রী লাভ করেন।

সাহেবজাদা মির্যা মসরূর আহমদ সাহেব ৩১শে জানুয়ারী ১৯৭৭ সালে সৈয়্যেদা আমাতুল সাবূহ বেগম সাহেবার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি বেগম সাহেবজাদী আমাতুল হাকীম এবং সৈয়দ দাউদ মুজাফফর শাহ সাহেবের কন্যা। বিবাহের দু’দিন পর দাওয়াতে ওয়ালিমা অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি এক কন্যা সন্তানের পিতা, মিসেস আমাতুল ওয়ারিস ফাতেহ, যিনি নওয়াবশাহের জনাব ফাতেহ আহমদ দাহিরির সাথে বিবাহিত এবং তাঁদের এক পুত্র এবং এক কন্যা রয়েছে। সাহেবজাদা মির্যা মসরূর আহমদ সাহেবের এক পুত্রও রয়েছে, মির্যা ওয়াকাস আহমদ, বর্তমানে (হুযূর (আই:) এর খিলাফতে আসীন হওয়ার সময়) তিনি যুক্তরাজ্যে হিসাববিজ্ঞানের উপর পড়াশুনা করছেন।

সতের বছরের তরূণ বয়সেই সাহেবজাদা মির্যা মসরূর আহমদ সাহেব মুসী হন অর্থাৎ তিনি একটি ওসিয়্যত বা ইচ্ছাপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন, যাতে প্রতিশ্রুত মসীহ্ (আঃ)- এর গৃহীত পরিকল্পনা অনুসারে, অঙ্গীকারাবদ্ধ হন যে, তাঁর সারা জীবনের আয়ের এবং সকল সম্পত্তির দশ ভাগের এক ভাগ ইসলামের জন্য প্রদান করবেন।

১৯৭৭ সালে তিনি নিজ ইসলামের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন, অর্থাৎ তিনি ওয়াকফে জিন্দেগী হলেন এবং হযরত মির্যা নাসের আহমদ, খলিফাতুল মসীহ্‌ সালেস (রহঃ)-এর নির্দেশে নুসরত জাহান স্কীমে অধীনে ঘানা চলে যান।

এই সামাজিক, শিক্ষামুলক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্কীমটি পশ্চিম আফ্রিকায় বহু সংখ্যক হাসপাতাল এবং স্কুলের পৃষ্টপোষকতা করে থাকে।

ফলশ্রুতিতে তিনি আহ্‌মদীয়া সেকেন্ডারী স্কুল ইসারকিইর এর প্রিন্সিপাল হন, যেখানে তিনি চার বছর কাজ করেন। এই স্কুলটি ঘানার কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অবস্থিত।

সাহেবজাদা মির্যা মসরূর আহমদ সাহেবকে ঘানার উত্তরাঞ্চল ডেপালীতে অবস্থিত আহ্‌মদীয়া কৃষি খামারের ম্যানেজার নিয়োগ দেয়া হয়, সেখানে তিনি দু’বছর কাজ করেন। ঘানায় গম উৎপাদনের প্রাথমিক পরীক্ষা বিফলতায় পর্যবসিত হয়। কিন্তু সাহেবজাদা মির্যা মসরূর আহমদ সাহেব অক্লান্তভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। তাঁর সাথে এই পর্যায়ক্রমিক গবেষণায় আরেকজন আহ্‌মদী, জনাব কাসিম আহমদ যোগ দেন। আহ্‌মদী কৃষিবিদদের এই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ফলদায়ক হয়। একটি অর্থকরী শস্য হিসেবে ঘানায় সর্বপ্রথম গমের পরীক্ষামূলক সফল রোপন, বৃদ্ধিকরণ এবং উপাদনের বিষয়টি একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় প্রদর্শন করা হয় এবং সেই ফলাফল ঘানার কৃষি মন্ত্রনালয়ে উপস্থাপন করা হয়। তাঁর ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা এই গবেষণার ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে যার ফলশ্রুতিতে ঘানার পর্যাক্রমিকভাবে আগত প্রসিডেন্টগণ আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামাতের প্রশংসা করেছে। এই ব্যাপক সফলতাপূর্ণ গবেষণা সেদেশের অর্থনীতিতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে এবং স্বনির্ভরতার পথকে সুগম করেছে।

১৯৮৫ সালে সাহেবজাদা মির্যা মসরূর আহমদ সাহেব পাকিস্তানে ফেরত আসেন এবং সে বছর ১৭ই মার্চ তিনি ওয়াকিলুল মাল দ্বিতীয় নিযুক্ত হন। ১৮ই জুন ১৯৯৪ সালে তিনি নাযের তালিম (শিক্ষা পরিচালক) নিযুক্ত হন।

১০ ডিসেম্বর ১৯৯৭, হযরত মির্যা তাহির আহমদ সাহেব, খলিফাতুল মসীহ্‌ রাবে (রহঃ) সাহেবজাদা মির্যা মসরূর আহমদ সাহেবকে সদর আঞ্জুমানে আহ্‌মদীয়া পাকিস্তানের নাযির আলা (প্রধান ব্যবস্থাপনা পরিচালক) এবং মোকামী (স্থানীয়) আমীর নিযুক্ত করেন।

তাঁর পূর্বতন ‘নাযির আলা’ ছিলেন তাঁরি পিতা সাহেবজাদা মির্যা মনসুর আহমদ সাহেব। সাহেবজাদা মির্যা মনসুর আহমদ সাহেব কেমন অমায়িক, অনুগত এবং ধর্মপরায়ন ছিলেন সেই বিষয়টিকে স্মরণ করে হযরত খলিফাতুল মসীহ্‌ রাবে (রাহেঃ) অশ্রুসিক্ত আঁখিতে বর্ণনা করেন করেন যে তিনি লক্ষ্য করলেন তাঁর সাথে সাক্ষাত কালে তিনি তাঁকে অত্যন্ত খুশী দেখতে পেলেন। যখন তিনি তাঁর সেই খুশীর কারণ জিজ্ঞেস করলেন, সাহেবজাদা মির্যা মনসুর আহমদ সাহেব বললেন,“আমি কেন খুশী হব না, আজ যুগ খলিফা আমার সন্তানদের এবং আমার পরিবারের প্রতি খুশী।”

সেই খুতবায় তিনি সাহেবজাদা মির্যা মসরূর আহমদ সাহেবের প্রতিও তাঁর উষ্ণ গুণমুগ্ধতা প্রকাশ করেন। খলিফা হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি ‘নাযের আলা’ এবং ‘স্থানীয় আমীর’ ছিলেন।

প্রশাসনিক ব্যাপারে এবং শৃংখলাপূর্ণ কার্যপ্রণালীর বিষয়ে তাঁর সমকক্ষতা নেই। কোন বিষয়ের মূলতত্ত্ব উদঘাটনে এবং এর বিচার বিশ্লেষণের পরিপূর্ণতায় তিনি অনন্যসাধারণ। কিন্তু এই গুণাবলী তিনি কেবল তাঁর সাধারণ চলার পথে লাভ করেননি বরং তা অর্জিত হয়েছে নিম্নোক্ত বহুমুখী দায়িত্বাবলীর মধ্য দিয়ে অতিক্রমের ফলশ্রুতিতে, সাহেবজাদা মির্যা মসরূর আহমদ সাহেব বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে জামাতের সেবা করার সুযোগ লাভ করেন। ‘নাযির আলা’ থাকাকালীন তিনি ‘নাযির জিয়াফত’ এবং ‘নাযির যিরাত’ হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৮৮ সালে তিনি ‘বেহেস্‌তি মকবেরা’র এবং ‘মজলিস কারপরদায মাসালাহে কবরস্থান’ এর প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন।

১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত তিনি নাসের ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। একই সময়ে সাহেবজাদা মির্যা মসরূর আহমদ সাহেব ‘তাজাঈন এ রাবোয়া’ (রাবওয়ার সৌন্দর্যবৃদ্ধিকরণ কিমিটি)-এর চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ‘গুলশনে আহ্‌মদীয়া’ নার্সারীর পরিধি বিস্তৃত করেন এবং তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগের ফলে ঊষর রাবওয়ায় আরামপ্রদ সবুজের স্নিগ্ধতায় ভরে উঠে।

কেন্দ্রীয় মজলিস খোদ্দামুল আহ্‌মদীয়াত (আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামাতের একটি অংগ সংগঠন, যা ১৫-৪০ বছর বয়সের যুবকদের নিয়ে গঠিত) সাহেবজাদা মির্যা মসরূর আহ্‌মদ সাহেব ১৯৭৬-৭৭ কার্য সালে মোহতামীম সেহেত ও জিসমানী (শারিরীক স্বাস্থ্য পরিচর্চা), ১৯৮৪-৮৫ কার্য সালে মোহতামীম তাজনীদ (পরিসংখান এবং সদস্য শুমারী), ১৯৮৫-৮৬ কার্য সালে মোহতামীম মজলিস বাইরূন (বৈদেশিক বিষয়ক) এবং ১৯৮৯-৯০ কার্য সালে পাকিস্তান খোদ্দামুল আহ্‌মদীয়ার নায়েব সদর (ভাইস প্রেসিডেন্ট) ছিলেন।

পাকিস্তান ‘মজলিস আনসারূল্লাহ’ তে (আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামাতের একটি অংগ সংগঠন, যা ৪০ বছরের অধিক বয়সের পুরুষদের নিয়ে গঠিত) সাহেবজাদা মির্যা মসরূর আহমদ সাহেব ১৯৯৫ সালে কায়িদ যেহানত (বুদ্ধিবৃত্তি) এবং কায়েদ সেহেত–এ-জিসমানী (শারিরীক স্বাস্থ্য পরিচর্চা) এবং ১৯৯৫-৯৭ সালে কায়েদ তালিমুল কুরআন (কুরআনের শিক্ষা) ছিলেন।

২২শে এপ্রিল ২০০৩, লন্ডন সময় রাত ১১টা ৪০মিনিটে খেলাফতের নির্বাচনে সাহেবজাদা মির্যা মসরূর আহমদ সাহেব এর খলিফাতুল মসীহ্‌ আল খামেস (প্রতিশ্রুত মসীহের পঞ্চম খলীফা) হওয়ার ঘোষণা করেন জনাব মাওলানা আতাউল মুজিব রাশেদ, সেক্রেটারী মজলিস শুরা। ঘোষণাটি ছিলঃ

“বিশ্বব্যাপী আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামাতের সদস্যদের অবগতির জন্যে জানানো যাচ্ছে যে, মাগরিব ও এশার নামাজের পর, ‘মজলিসে ইন্তিখাবে খিলাফত’ (খিলাফত নির্বাচন কমিটি) যা হযরত খলিফাতুল মসীহ্‌ সানী, মুসলেহ মাওউদ (রাঃ) প্রতিষ্ঠা করেন, তা আজ ২২ এপ্রিল ২০০৩, শ্রদ্ধেয় চৌধুরী হামিদুল্লাহ সাহেবের সভাপতিত্বে ফযল মসজিদে এক নির্বাচনী সভায় মিলিত হয়। নির্দিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী প্রতিটি সদস্য খেলাফতে আহ্‌মদীয়ার প্রতি আনুগত্যর শপথ গ্রহণ করেন। অতঃপর, তাঁরা পরম সাহেবজাদা মির্যা মসরূর আহমদ (আই:) সাহেবকে খলিফাতুল মসীহ্‌ আল খামেস নির্বাচন করেন।

‘মজলিসে ইন্তিখাবে খিলাফত’ এর সদস্যরা গর্বিত যে তাঁরা তৎক্ষণাৎ হযরত আমিরুল মোমিনীন খলিফাতুল মসীহ্‌ আল খামেস (আল্লাহতা’লা তাঁকে তাঁর শক্তিশালী সমর্থনে সহায়তা করুন এবং তাঁকে দীর্ঘ জীবন দান করুন) এর হাতে বয়’আত গ্রহণের সৌভাগ্য লাভ করেন এবং আমিরুল মোমিনীন এর সাথে মিলিত (বুকে বুক মিলানোর) হওয়ারও সৌভাগ্য লাভ করেন। আলহামদুলিল্লাহ।

সমস্ত প্রশংসা অধিকারী আল্লাহতা’লা এই নির্বাচনকে পরম আশীর্বাদপূর্ণ করুন, আমিন। হে আমাদের পরম দয়ালু এবং করুণাময় খোদা! হে আমাদের মহান ও স্নেহাস্পদ খোদা, আমরা তোমার নিকট কৃতজ্ঞ যে তুমি আমাদের প্রতি করুণা বর্ষণ করেছ এবং দ্বিতীয় কুদরত অবতীর্ণ করেছ এবং আরও একবার আমাদের ভয়ের অবস্থাকে নিরাপত্তায় পরিণত করেছ। হে সকল ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অধিকারী এবং স্বনির্ভর ও সর্বপ্রদাতা খোদা, আমরা সাক্ষ্য বহন করি যে, আরও একবার তোমার মসীহ্‌ ও মাহদীর “আল্-ওসীয়্যত” পুস্তকে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ গৌরব ও মহিমার সাথে বাস্তবায়িত হয়েছে”।