হযরত মুহাম্মদ (স:) এর শ্রেষ্টত্ব ও মাহাত্ম্য প্রশ্নাতীত – True Love for The Holy Prophet (saw)

হযরত মুহাম্মদ (স:) এর বিরুদ্ধে অবমাননাকর চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিপ্রেক্ষিতে আহমদীয়া মুসলিম জামাতের প্রতিক্রিয়া | True Love for The Holy Prophet (saw)

Bangla translation of the Friday Sermon delivered by Khalifatul Masih V(aba) on September 21, 2012 at Baitul Futuh Mosque, London.

ইসলামের শত্রদের পক্ষ থেকে পরিচালিত অত্যন্ত হীণ, জঘন্য এবং অন্যায় কর্মকান্ডের কারণে বর্তমানে ইসলামীক রাষ্ট্রসমূহে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী মুসলমানদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মুসলমানদের পক্ষ থেকে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে সঙ্গত ও ন্যায্য। মহানবী (সা.)-এর প্রকৃত মর্যাদা ও মাহাত্ম্যের বিষয়ে একজন মুসলমানের সঠিক জ্ঞান থাকুক বা না থাকুক সে মহানবী (সা.)- এর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় নিজের প্রাণ বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত হয়ে যায়। ইসলামের শত্রুরা মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও বাজে যে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছে এবং এ চলচ্চিত্রে হুযূর (সা.)-কে যেরূপ চরমভাবে অপমান করার অপচেষ্টা করা হয়েছে তাতে প্রত্যেক মুসলমানের দুঃখ পাওয়া আর ক্ষুব্ধ হওয়াটাই স্বাভাবিক। মানবদরদী, সমগ্র বিশ্বের জন্য আশীর্বাদ ও আল্লাহ্ তা’লার প্রিয়পাত্র মহানবী (সা.) মানুষের দুঃখে রাতের পর রাত বিনিদ্র কাটিয়েছেন, মানুষকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য স্বয়ং এত বেদনা ভারাক্রান্ত হয়েছেন আর নিজেকে এমন দুঃখ-কষ্টে নিপতিত করেছেন যে, স্বয়ং আরশের অধিপতি হুযূর (সা.)-কে সন্বোধন করে বলেছেন, ‘এরা তাদের সৃষ্টিকর্তা প্রতিপালক-প্রভুকে কেন চিনছে না- এ কথা ভেবে তুমি কি নিজেকে ধ্বংস করে ফেলবে?’ মহান এই মানবদরদী নবী সম্পর্কে এমন অবমাননাকর চলচ্চিত্রের জন্য একজন মুসলমানের হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত হওয়াই স্বাভাবিক এবং হয়েছেও তাই। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছে আহমদী মুসলমানরা। কেননা আমরা হলাম মহানবী (সা.)-এর সেই খাঁটি প্রেমিক ও দাসের মান্যকারী যিনি আমাদেরকে মহানবী (সা.)-এর সুমহান মর্যাদার বুৎপত্তি দান করেছেন। তাই, এ অপকর্মের জন্য আমাদের অন্তর আজ ঝাঁজরা এবং আমাদের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত। আমরা খোদার দরবারে সিজদাবনত হয়ে দোয়া করছি, হে খোদা! এসব দুরাচারীদের কাছ থেকে তুমি নিজে প্রতিশোধ গ্রহণ কর, তুমি তাদের এমন উচিত শিক্ষা দাও যা পৃথিবীর শেষদিন পর্যন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এ যুগের ইমাম আমাদেরকে রসূল প্রেমের চেতনায় এভাবে সমৃদ্ধ করেছেন, ‘জঙ্গলের সাপ ও হিংস্র জীব- জন্তুর সাথে সন্ধি হতে পারে কিন্তু যারা আমাদের সম্মানিত নেতা ও অভিভাবক খাতামুল আম্বিয়া হযরত মুহাম্মদ (সা.)- কে অপমান করে অধিকন্তু হঠকারিতাও দেখায়, তাদের সাথে আমরা সন্ধি করতে পারি না।’ (পয়গামে সুলাহ্) হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন, ‘মুসলমানরা এমন এক জাতি যারা তাদের প্রিয় নবী (সা.)-এর সম্মানার্থে নিজেদের প্রাণ বির্সজন দেয়। তাদের রসূল (সা.)-কে দিবানিশি গালি দেয়া যাদের পেশা, যারা নিজেদের পত্রপত্রিকা, বই-পুস্তক ও বিজ্ঞাপনসমূহে অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সাথে তাঁর নাম উল্লেখ করে এবং তাঁর জন্য চরম নোংরা শব্দ ব্যবহার করে তাদের সম্বন্ধে সুধারণা পোষণ করা ও তাদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করার মত অসম্মান অপেক্ষা মৃত্যুবরণ করাকে মুসলমানরা শ্রেয় মনে করে।’ হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) লিখেছেন, ‘স্মরণ রাখবেন! এমন লোকেরা স্বজাতিরও শুভাকাঙ্খী নয়। কেননা তারা তাদের চলার পথে অন্তরায়। আমি সত্য সত্যই বলছি, আমাদের পক্ষে জঙ্গলের সাপ ও মরুভূমির হিংস্র জন্তুর সাথে সন্ধি করাও সম্ভব, কিন্তু আমরা এমন সব মানুষের সাথে আপোষ করতে পারি না যারা আল্লাহ্‌র নবীদের সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দেয়া হতে ক্ষান্ত হয় না। তারা মনে করে গালমন্দ করা ও অকথ্য ভাষা ব্যবহারের মাঝে বিজয় নিহিত। বস্তুতঃ সকল বিজয় ঊর্ধ্বলোক থেকেই এসে থাকে।’ তিনি (আ.) আরো বলেছেন, ‘পবিত্র ভাষী মানুষেরা অবশেষে তাদের পবিত্র ভাষণ ও কথনের কল্যাণে মানুষের মন জয় করে থাকে। কিন্তু নোংরা স্বভাবের লোকেরা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে বিভেদ ও বিচ্ছেদ সৃষ্টি করা ছাড়া অন্য কোন কৌশল জানে না।’ হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) আরো  বলেছেন, ‘অভিজ্ঞতাও এ কথাই বলে, নোংরা ভাষী মানুষের পরিণাম শুভ হয় না। আর অবশেষে আল্লাহ্‌র আত্মাভিমান তাঁর প্রিয়জনদের পক্ষে কার্যকর হয়।’ (চশমায়ে মা‘রেফত, রূহানী খাযায়েন ২৩খন্ড, পৃষ্ঠা: ৩৮৫-৩৮৭) বর্তমান যুগে পত্র-পত্রিকা ও বিজ্ঞাপনের পাশপাশি অন্যান্য প্রচার মাধ্যমকেও এই জঘন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অতএব যারা হঠকারিতার বশবর্তী হয়ে আল্লাহ্ তা’লার বিরুদ্ধাচারণ করছে নিশ্চয়ই তারা তাঁর পক্ষ থেকে শাস্তি পাবে, ইনশাআল্লাহ্। এরা নিজেদের হঠকারিতায় অনড় থেকে ধৃষ্টতার সাথে অত্যাচার-অনাচার চালিয়ে যাচ্ছে। ২০০৬ সালে ডেনমার্কে নোংরা প্রকৃতির লোকেরা যখন মহানবী (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করেছিল, তখনো আমি জামাতকে যথাযথ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। তখন আমি আরও বলেছিলাম, পূর্বেও এমন সীমালঙ্ঘনকারীর জন্ম হয়েছে আর এ অপকর্মের এখানেই শেষ নয়। মুসলমানদের পক্ষ থেকে বর্তমানে যে ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হচ্ছে এতে কাজের কাজ কিছুই হবে না। বরং ভবিষ্যতেও এরা এ ধরনের কুকর্ম অব্যাহত রাখবে। আর আমরা দেখছি, এখন এরা এর চেয়েও বেশি ঘৃণ্যকর্ম ও অনাচারে লিপ্ত হয়েছে। আর তখন থেকেই এরা ধীরে ধীরে এক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করে চলেছে। ইসলামের বিপক্ষে এটি হলো তাদের চরম পরাজয় যা তাদেরকে ‘বাক- স্বাধীনতা’র ছত্রছায়ায় জঘন্য ও অশালীন কর্মকান্ডে ধৃষ্ট করছে। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেছেন, ‘স্মরণ রেখ! এরা নিজ জাতিরও শুভাকাঙ্খী নয়। একদিন এসব জাতির কাছেও এদের কর্মের স্বরূপ সুস্পষ্ট হয়ে যাবে। এবং পরিস্কার ভাবে প্রতিভাত হবে, এরা আজ যেসব জঘন্য অপলাপে লিপ্ত তা এসব জাতির জন্যও ক্ষতিকর কেননা এরা স্বার্থপর ও অত্যাচারী। নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করা ছাড়া এদের অন্য কোন কাজ নেই।’

বিস্তারিত পড়ুন

English Summary:

  • These days an intense wave of indignation has swept through the Muslim world; in Muslims countries as well as among Muslims living in different countries of the world in response to an extremely crude and offensive act of anti-Islam elements.   Indeed, Muslims are justified in this. Whether or not a Muslim has proper insight of the real station of the Holy Prophet (saw), he is ready to give his life for his respect and honour.
  • The extremely insulting film about this great benefactor of humanity was surely going to make a Muslim’s heart bleed and it did. And more than anyone, it pained Ahmadi Muslims for we are the followers of the true and ardent devotee of the      Holy Prophet (saw) who gave us the insight and perception of the great station of the Holy Prophet(saw).
  • Right now in the name of freedom of speech politicians and others, in places openly and in places discreetly, are speaking up for these people; some are also speaking up for the Muslims. But it should be remembered that this world is now like a global village and if wickedness is not openly called wickedness, these matters can also destroy the peace of these countries.
  • While an Ahmadi expresses indignation and disgust at the vulgarity, he or she also tries to draw attention of people to desist from committing these vulgarities. From a worldly perspective an Ahmadi tries to make the world aware of the reality as opposed to this conspiracy and presents the beautiful aspects and blessed model of the Prophet (saw).
  • The law about freedom of speech is not heavenly scripture.  Hadhrat Khalifatul Masih said that this is what he had told the politicians in his address in USA. That there can be flaws  in man-made laws; some aspects can be missed while legislating because man does not possess the knowledge of the unseen. But God is Knower of the unseen and there is no flaw in His laws.
  • We, Ahmadi Muslims do not leave  any stone unturned to serve the world. Last year the need arose in US and      Ahmadis donated 12,000 bottles of blood and they are doing the same this year. Hadhrat Khalifatul Masih told them that while Ahmadis are donating  blood, by agreeing with these people they are making our hearts bleed.  Muslims are alleged to be doing wrong.
  • There is the matter of regard for others’ sentiments in which the Prophet(saw) was incomparable. In spite of knowing that he was the most prominent among all Prophets, in regard of the sentiments of a Jew he said that he should not be given      preference over Moses (as). His regard for the sentiments of the underprivileged can be seen in a tradition where one of his wealthy Companions was expressing his superiority over others.

Please click here to read the full Khutba in English.

Click here to listen to or Read the Khutba in 18 languages

You might also be interested in …


হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) – Holy Prophet (pbuh)
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) – Holy Prophet (pbuh)

“আমরা তোমাকে বিশ্ববাসীর জন্য কেবল রহমত স্বরূপই প্রেরণ করিয়াছি”। সূরা আম্বিয়া (২১:১০৭)

‘এখন আসমানের নীচে মাত্র একজনই নবী আ…


কোরআন শরীফ – Holy Quran
কোরআন শরীফ – Holy Quran

কোরআন শরীফ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর ২৩ বছর ব্যাপী নাযেল কৃত শাব্দিক ওহীর সংকলন। মুসলমানদের জন্য এটি পবিত্র বই বা ধর্মগ্রন্থ। এতে মুসলম…


খাতামান্-নাবীঈন এবং আহ্‌মদীয়া জামা’ত – The Concept of Khataman Nabiyyeen (The Finality o…
খাতামান্-নাবীঈন এবং আহ্‌মদীয়া জামা’ত – The Concept of Khataman Nabiyyeen (The Finality of Prophethood)

 

http://www.youtube.com/watch?v=wHS_pBBI0FQ
http://www…


Muhammad: the Liberator of Women
Muhammad: the Liberator of Women

Hadhrat Mirza Bashir-ud-Din Mahmood Ahmad (ra)
Second Successor to the Promised Messiah

In the name of Allah, Most Gracious, Ever…