আমাদের পরিচিতি

Home/আমাদের পরিচিতি
আমাদের পরিচিতি 2014-11-03T18:55:05+00:00

আহমদীয়া মুসলিম জামাত একমাত্র ইসলামিক সংগঠন যার অনুসারীগণ বিশ্বাস করে যে ভারতবর্ষের কাদীয়ানের মির্যা গোলাম আহমদ (আঃ) (১৮৩৫-১৯০৮) এর মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতিক্ষীত নাজারাতে জন্মগ্রহণকারী মসীহের রূপকার্থে দ্বিতীয় আগমন ঘটেছে। হযরত আহমদ (আঃ)নিজেকে মসীহ মাওউদ এবং ইমাম মাহদী হিসেবে দাবী করেন, যাঁর আসার কথা ইসলামের পবিত্র নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন। আহমদীয়া মুসলিম জামাত বিশ্বাস করে যে আল্লাহতায়ালা হযরত আহমদ (আঃ) কে প্রেরণ করেছেন হযরত ঈসা (আঃ) এর মতো ধর্মযুদ্ধ রহিত করতে, অযথা রক্তপাতের নিন্দা জানাতে এবং নৈতিকতা, ন্যায়বিচার ও শান্তি পুনঃর্প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে। হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) এর আগমন ইসলামী পুনর্জাগরণের এক অভূতপূর্ব যুগের সূচনা করেছে। তিনি বলিষ্ঠভাবে ইসলামের প্রকৃত ও প্রয়োজনীয় শিক্ষার সমর্থনের মাধ্যমে ইসলামকে অন্ধ গোঁড়া বিশ্বাস এবং ভ্রান্ত রীতিনীতি থেকে মুক্ত করেছেন। এছাড়া তিনি ধর্মের মহান প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশিষ্ট সাধু ব্যক্তিদের পবিত্র শিক্ষার স্বীকৃতি দিয়েছেন যাঁদের মধ্যে রয়েছেন যরাথুরূষ্ট (আঃ), ইব্রাহীম (আঃ), মুসা (আঃ), ঈসা (আঃ), শ্রীকৃষ্ণ (আঃ), গৌতম বুদ্ধ (আঃ), কনফুসিয়াস (আঃ), লাও সু ও গুরু নানক। সেইসঙ্গে তিনি কিভাবে তাঁদের সকলের শিক্ষা একই সত্য ইসলামের শিক্ষায় একীভূত হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

আহমদীয়া মুসলিম জামাত অগ্রগামী ইসলামী সংগঠন যা যে কোন রকমের সন্ত্রাসবাদকে সুস্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে। একশত বছরেরও আগে, হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আঃ) জোরালোভাবে ঘোষণা দেন যে ইসলামে আক্রমণাত্মক “তরবারির জিহাদের” কোন স্থান নেই। বরঞ্চ তিনি তাঁর অনুসারীদেরকে ইসলামের সমর্থনে রক্তপাতহীন এবং বুদ্ধিবৃত্তিক “কলমের জিহাদে” লিপ্ত হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। এজন্য তিনি ৮০ টিরও বেশি বই ও হাজার হাজার পত্র লিখেছেন, শত শত ভাষণ প্রদান করেছেন এবং বহু মোনাজেরা বা বিতর্কে  অংশ নিয়েছেন। ইসলামের  প্রতিরক্ষায় তাঁর সুদৃঢ় যুক্তি-প্রমাণ মুসলমানদের গতানুগতিক চিন্তাধারায় প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছিল। ইসলামের পুনর্জাগরণের প্রচেষ্টায়, অন্যান্য মুসলমানদের বাঁধা সত্ত্বেও আহমদীয়া মুসলিম জামাত হযরত মসীহ মাওউদ (আঃ) এর সংযম ও ধৈর্যের যে সুমহান শিক্ষা তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

আহমদীয়া মুসলিম জামাত সেই প্রধানতম ইসলামী সংগঠন যার একজন কেন্দ্রীয় ঐশী নেতা (খলীফা) আছেন। হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আঃ) তাঁর অনুসারীদেরকে একশত বছরেরও আগে ইসলামের বাণীকে শান্তিকামী খিলাফতের মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে আল্লাহতায়ালার প্রতিশ্রুতিকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন। আহমদীয়া মুসলিম জামাত বিশ্বাস করে যে ইসলামের সত্যিকারের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে এবং বিশ্ব মানবতাকে একত্রিত করতে ঐশী প্রতিনিধিত্ব ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। ১৯০৮ সালে ইমাম মাহদী (আঃ) এর তিরোধানের পরে এপর্যন্ত পাঁচজন ঐশী নেতা (খলীফা) তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। আহমদীয়া মুসলিম জামাতের পঞ্চম এবং বর্তমান খলীফা হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। প্রতিশ্রুত খেলাফতের অধীনে আহমদীয়া মুসলিম জামাত এখন পর্যন্ত ১৫,০০০ এরও বেশী মসজিদ, ৫০০ এর অধিক স্কুল এবং ৩০ টিরও বেশী হাসপাতাল নির্মাণ করেছে এবং ৭০ টিরও অধিক ভাষায় কোরআন শরীফের অনুবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এই জামাত ২৪-ঘন্টা স্যাটেলাইট চ্যানেল (www.mta.tv), ইন্টারনেট (www.alislam.org) এবং প্রিন্ট মিডিয়া (ইসলাম ইন্টারনেশনাল পাব্‌লিকেশনশ্‌)-এর মাধ্যমে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা এবং শান্তি ও সহনশীলতার বাণী প্রচার করছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় “হিউমেনিটি ফার্স্ট” নামে একটি স্বাধীনভাবে পরিচালিত দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে এই জামাত দুর্যোগ সহায়তা-মূলক কার্যক্রমের পুরোভাগে নিয়োজিত।